
লাইলাতুল কদর (শবে কদর) হলো অন্যতম পবিত্র ও ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতকে ‘হাজার মাসের চেয়ে উত্তম’ বলা হয়েছে, কারণ এই রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে এবং ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।” (সূরা কদর: ৩)
এই রাতেই আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য সর্বশেষ গ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এই রাত অতিবাহিত করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।” (বুখারি: ১৯০১)
এই রাতে অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং মুসলমানদের জন্য দোয়া করতে থাকেন।
লাইলাতুল কদরের নামাজ
লাইলাতুল কদরের রাতে নফল নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
লাইলাতুল কদরের রাতে নফল নামাজের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। অনন্য নফল নামাজ যে ভাবে পরেন লাইলাতুল কদরের রাতে নফল নামাজ সেভাবেই পরবেন। দুই রাকাত করে করে ইচ্ছা অনুযায়ী যত রাকাত পারেন পরতে পারেন। এই রাতে অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসেন তাই সিজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে পারেন।
এই রাতের অনন্য ইবাদত সমূহ
কুরআন তেলাওয়াত: কুরআন নাজিলের এই রাতেই কুরআন পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।
দোয়া: রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এই রাতে পড়ার জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।” অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি: ৩৫১৩)
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।” (অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাই।)
তাসবিহ ও জিকির: এই রাতে বেশি বেশি ‘ইস্তেগফার’, ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়া উচিত।
সদকা ও দান: এই রাতে দান-সদকা করলে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায় এবং গুনাহ মাফ হয়।
লাইলাতুল কদর কবে?
লাইলাতুল কদর কত তারিখ এ বিষয়ে ৪০টির অধিক মত রয়েছে। তবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মত হলো রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতের যে কোনো এক রাতে অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯তম রাতে।
শবে কদরের আলামত
শবে কদরের একটি আলামত হচ্ছে সূর্যের তেজ কম থাকা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘ওই রাতের আলামত বা লক্ষণ হলো, রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে তা উজ্জ্বল হবে। কিন্তু সে সময় তার কোনো তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না।’ (মুসলিম : ১৬৭০)
রাতে বিশেষ আরাম বোধ হবে। রাতের বাতাস হবে বিশেষ প্রশান্তিদায়ক। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদরের রাতটি হবে প্রফুল্লময়। না গরম, না ঠান্ডা। সেদিন সূর্য উঠবে লালবর্ণে, তবে দুর্বল থাকবে।’ (ইবনে খুযাইমা : ২১৯২)‘
আরও দেখুন তারাবির নামাজের নিয়ম, রাকাত সংখ্যা, দোয়া ও মোনাজাত



