
IELTS ছাড়া কি বিদেশে পড়া সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব। অনেক দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য IELTS বাধ্যতামূলক করে না। যদি আপনার পূর্ববর্তী শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হয়ে থাকে, অথবা বিশ্ববিদ্যালয় বিকল্প ভাষা দক্ষতার প্রমাণ গ্রহণ করে, তাহলে IELTS ছাড়াও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম এক নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি নীতিমালা অবশ্যই দেখে নিন।
যেসব দেশে IELTS ছাড়া পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়
১. জার্মানি
অনেক জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় IELTS ছাড়াই আবেদন গ্রহণ করে। ইংরেজি মাধ্যমে পূর্ববর্তী শিক্ষা সম্পন্ন করলে “Medium of Instruction (MOI)” সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হতে পারে।
২. ইতালি
ইতালির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে IELTS ছাড়াই ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংরেজি মূল্যায়ন বা অনলাইন সাক্ষাৎকার নেয়।
৩. মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় MOI বা বিকল্প ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ গ্রহণ করে।
৪. কানাডা
কিছু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে IELTS ছাড়াই আবেদন করা যায়। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
৫. যুক্তরাজ্য (UK)
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় IELTS-এর পরিবর্তে MOI, অনলাইন ইন্টারভিউ অথবা বিকল্প ইংরেজি পরীক্ষার ফল গ্রহণ করে।
৬. অস্ট্রেলিয়া
সীমিত সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকল্প ভাষা দক্ষতার প্রমাণ গ্রহণ করা হয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্ত যাচাই করা জরুরি।
IELTS-এর বিকল্প হিসেবে কী গ্রহণ করা হতে পারে?
- Medium of Instruction (MOI) Certificate
- TOEFL
- PTE Academic
- Duolingo English Test (কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে)
- Cambridge English Test
- বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি সাক্ষাৎকার বা মূল্যায়ন
আবেদন করতে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
- পাসপোর্ট
- একাডেমিক সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট
- Statement of Purpose (SOP)
- Recommendation Letter (যদি প্রয়োজন হয়)
- CV/Resume
- Medium of Instruction Certificate (যদি প্রযোজ্য হয়)
IELTS ছাড়া আবেদন করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
- প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা আলাদা।
- ভিসার জন্য কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাষা দক্ষতার প্রমাণ লাগতে পারে।
- শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করুন।
- স্কলারশিপের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাষাগত শর্ত থাকতে পারে।
২০২৬ সালে IELTS ছাড়া আবেদনযোগ্য জনপ্রিয় স্কলারশিপসমূহ
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরীক্ষা হলো IELTS। তবে এর খরচ ও প্রস্তুতির চাপ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই বাধা দূর করতে ২০২৬ সালে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক স্কলারশিপে আবেদন করা যাবে IELTS ছাড়াই। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিকল্প ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ গ্রহণ করছে, যেমন- ইংরেজি মাধ্যমে আগের ডিগ্রির সনদ, TOEFL, Duolingo বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট।
উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপসমূহ:
- সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপস (সুইডেন): সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক ভাতা (১২ হাজার ক্রোনার), চিকিৎসাবিমা ও ভ্রমণ অনুদান।
- এসবিডব্লিউ বার্লিন স্কলারশিপ (জার্মানি): টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া ও মাসিক ভাতা।
- দোহা ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ (কাতার): তামিম ও স্যানাড দুই ধরনের স্কলারশিপে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্যবীমা।
- ইউনিভার্সিটি অব ডেব্রেচেন স্টাইপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম (হাঙ্গেরি): ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে সম্পূর্ণ অর্থায়ন।
- ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ (ইউরোপ): একাধিক ইউরোপীয় দেশে পড়ার সুযোগ, টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা ও ভ্রমণ ব্যয়।
- ইএনএস ইন্টারন্যাশনাল সিলেকশন স্কলারশিপ (ফ্রান্স): তিন বছর ধরে মাসিক এক হাজার ইউরো ভাতা ও আবাসনের সুবিধা।
- ইউনিভার্সিটি অব পেকস স্কলারশিপ–২০২৬ (হাঙ্গেরি): ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে শতভাগ টিউশন ফি ছাড়, পড়াশোনার সব ব্যয় কাভার করবে।
IELTS ছাড়াই এসব স্কলারশিপে আবেদন করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন বা বিকল্প দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন, তারা সহজেই এসব বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফলে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পথ আরো উন্মুক্ত হচ্ছে।
আরও দেখুন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ (CGPA) হিসাব করার সহজ নিয়ম



