অন্যান্য

আয়না ঘর কি? আয়নাঘর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

আয়না ঘর, নামটা শুনতে যতটা সাদামাটা, ততটাই রহস্যময়। আয়নাঘর সম্পর্কে  ভয়ঙ্কর সব তথ্য শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে।

মূলত আয়নাঘর হলো ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের দ্বারা পরিচালিত একটি গোপন বন্দিশালা। আলো-বাতাসহীন একটি কক্ষ, সারাক্ষণ ঘড়ঘড়িয়ে চলে ফ্যান।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তখন থেকে ২০২৪ সালে ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনাকারী এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা তুলে নিয়ে মাটির নিচে বিশেষভাবে তৈরী বন্দীশালা আয়নাঘরে নিয়ে নৃশংস নির্যাতন করা হতো। অনেকে বছরের পর বছর সেখানে আটক করে রাখা হতো। আত্বীয় স্বজনদের সাথে কথা বলতে দেওয়া তো দূরের কথা তাদের জানতেও দেওয়া হয়নি আসলে তারা মারা গেছে না কি জীবিত আছে। অনেকেই দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মারা যায়। তারপর লাশ সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০২২ সালের ১৪ আগস্ট, সুইডেন ভিত্তিক স্বাধীন নিউজ পোর্টাল ‘নেত্র নিউজ’ একটি অনুসন্ধানী হুইসেলব্লোয়ার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সে প্রতিবেদনে বলা হয় আয়না ঘরে বলপূর্বক গুমের শিকারদের আটক ও নির্যাতন করছে। প্রতিবেদনটি বলপূর্বক গুমের শিকার দুই ব্যক্তি হাসিনুর রহমান এবং শেখ মোহাম্মদ সেলিম-এর অন-দ্য রেকর্ড অ্যাকাউন্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিলো। তখন সারা বিশ্বে তা নিয়ে হইচই শুরু হলে বাংলাদেশ সরকারের ডিজিএফআই, র‍্যাব ওই নিউজের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে হাসিনা সরকারের পতন হলে আবার নতুন করে আয়নাঘর আলোচনায় আসে। হাসিনা সরকারের বিদায়ের পরেই আয়না ঘর থেকে মুক্তি পায় জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, সাবেক সামরিক জেনারেল এবং জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আজমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা। ধারণা করা হয় সেখানে আরও অনেক বন্দিরা রয়েছে।

উল্লেখ্য ব্যারিস্টার আরমান এবং আমান আজমি দীর্ঘ ৮ বছর আয়না ঘরে বন্দী থকার পর মুক্তি পায়।  ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে নিখোজ ছিল মাইকেল চাকমা।

ঘরে বসেই সহজে বাসা খুঁজুন অথবা বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপন দিন Bdbasavara.com ওয়েবসাইটে।

আয়না ঘর কোথায় অবস্থিত?

‘আয়নাঘর’ ঢাকার ডিজিএফআই এর সদর দফতরের ঠিক পিছনে। সেখান থেকে ছাড়া-পাওয়া এক বন্দির কথায়, উত্তরে ১৪ তলা বিল্ডিং। দক্ষিণে মেস বি। পূর্ব পাশে কয়েকটি সরকারি দফতর। পশ্চিম পাশে ডিজিএফআইয়ের ফাঁকা ছাউনি। উত্তর-পূর্বে ডিজিএফআইয়ের মসজিদ। আর মাঝখানে একটা মাঠ। সেই মাঠের মাঝখানেই ওই গুমঘর (আয়নাঘর)।

আয়না ঘর

বিভিন্ন সময়ে আয়নাঘরে বন্দী থাকা মানুষদের থেকে সেখানকার বর্ণনা

সালিম বলেন-
বন্দীশালা আয়নাঘরের রুমগুলোতে কোনো জানালা নেই, অনেক উচুতে একটি ছোট বাল্ব থেকে সামান্য আলো পাওয়া যায়, কোথাও বিশালাকার এডজস্ট ফ্যান সারাদিন চলত, যার শব্দে বাহিরের কোনো শব্দই নির্জন কক্ষে পৌছত না, কোনো কোনো সময় আশপাশের কক্ষগুলো থেকে মানুষের ক্ষীণ আর্তচিৎকার শুনা যেত। মাঝে মাঝে কম্পন অনুভব হতো, সালিমের ধারনা কাছাকাছি কোথাও বিমান বন্দর বা বিমানঘাটি রয়েছে। সালিম আরো বলেন- ঠিক কতজন লোককে সেখানে বন্দী করে রাখা হয়েছে তা ধারনার বাহিরে।

ব্যারিস্টার আরমান বলেন-
আট বছরের মধ্যে মুক্তি পাওয়ার পর আমি প্রথম মুক্ত বাতাস পাই। আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল একটি জানালাবিহীন একটি গোপন ঘরে। এই কারাগারে যারা থাকেন সেখানে তারা নিজেকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পান না।  গোপন এ কারাগারের রক্ষীরা সারাক্ষণ উচ্চ শব্দে গান ছেড়ে রাখত। এজন্য আজান শুনতেন না এবং বুঝতে পারতেন না কখন কোন নামাজের সময় হয়েছে। এছাড়া কত সময় আটকে আছেন সেটিও বোঝার উপায় ছিল না। কিন্তু যখন গানের শব্দ বন্ধ হত তখন বুঝতে পারতাম এ কারাগারে আমি একা না, আরও অনেকে আছেন। কারণ আমি অন্যদের চিৎকার ও কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পেতাম।

সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেন-
বন্দীশালায় নির্যাতনের কারণে তার সাথে থাকা একটা গামছা দেখিয়ে বলেন এই গামছায় যে পরিমান চোখের পানি তিনি মুছেছেন তা সংরক্ষন করলে একটি দিঘীতে যে পরিমান পানি থাকে তার সমপরিমান পানি হতো।

প্রায় তিন বছর গোপন বন্দীশালায় আটকে থাকার পর ছাড়া পাওয়া এক কিশোরের চাচা বলেন-
তার ভাতিজা মুক্ত হওয়ার পর প্রায় পাগল হয়ে গেছে। বন্দী শালা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে আতংকে এড়িয়ে যায়। আবারো বন্দীশালায় নিয়ে যাওয়ার আতংক তার মধ্যে বিরাজ করছে। তার ভাতিজা তাকে বলেছে- অনেক সময় মনে হতো তাকে সমতল থেকে অনেক নিচে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেখানে তাকে মাসের পর মাস রাখা হয়েছে, আবার তাকে সমতলে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে, এভাবেই তার দিনগুলো কেটেছে। একই বৈদ্যুতিক আলোতে তাকে মাসের পর মাস কাটাতে হয়েছে, সূর্যের আলো কতদিন বা কত মাস পর পর সে দেখেছে কোনো হিসাব নেই তার কাছে।

আরও দেখুনঃ ৭ কলেজের কলেজ ও বিষয় মনোনয়ন পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের করণীয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আর্টিকেল পড়ুন

Back to top button

Alert!

Don't use any ads blocker. Otherwise your ip will be block for our website. you can't read any post.